যুদ্ধের ইতিহাস
অনুকূল নয় মূলত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা এবং তাতে বিজয়ী হওয়ায় হচ্ছে বিরত্ব আমি একটা কথা বুঝতে পারিনা আপনারা কেমন লোক? অ্যা... কেমন মুক্তিযোদ্ধা বলেন! আপনে জাতির জনকের ২৬ শেষ মার্চের ঘোষনা মতে মুক্তিযুদ্ধ করলেন। নয় মাস খাইয়া না খাইয়া বনে বাদারে খালে বিলে মাঠে ময়দানে গলা পানির মধ্যে থাইক্কাই যুদ্ধ করছেন সেই কথা তো জাতি কয়ও... কয়না? কয়। আপনেরা পাকিস্তানি সেনাগো হাতে ধরা খাইয়া চামড়া ছিলনের পড়ও দলের অন্য মুক্তিগো ক্যাম্পের কথা বা সহযোদ্ধাদের কথা জান গেলেও বা নিজে মইরাও তাদের কথা প্রকাশ করেন নাই বা বলেন নাই। এই দেশের সারে সাত কোটি জনগনের সকলের ঘড়ে ঘড়ে বঙ্গবন্ধু দূর্গ গড়নের হুকুম দিলেও আপনারা লাখ দেড়েক কাছা মারা আধা শিক্ষিত, অশিক্ষিত পোলাপাইন ছুইটা গেলেন ইন্ডিয়া। না হয় আপনেরগো দেশের জন্য বেশী মায়া আছিলো মানলাম। ট্রেনিং নিলেন বেশী থেকে বেশী একুশ দিনের তারপর ঐ ৩২ হ্যান্ড গ্রেনেড, মার্ক থ্রি রাইফেল বা ৭'৬২ এস এল আর বা কালা কালা ফুডা ফুডা স্টেনগান ৯ এম এম এস এম জি ছোড মোড অশ্রপাতি লইয়া পাকিস্তানের মত এত বড় যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত রেগুলার সেনা বাহিনীর লগে যুদ্ধ করনের সাহস দেখাইলেন। আর নেতা মহোদয়রা উপরের শ্রেনীর ছাড়া মধ্য আর নিন্ম মধ্যে ( ছোট নেতা বলা যাবেনা তাতে তাদের ইজ্জতের হানি হবে) তারা তো হোটেল বিলাশ আর ভারত সরকারের খাইয়া লইয়া বলরাম আয়েশ কইরা সময় অতিবাহিত করছে। তবে তারাও আশায় থাকতো কবে আপনেরা আপনেগো বুকের তর তাজা রক্ত দিয়া দেশ স্বাধীন কইরা তাদেরকে ক্ষমতায় বসাইবেন... সেই আশায় দিন কাটাইতো হোটেল আর ঘুড়তো বড় বড় নেতা গো পিছন পিছনে। তা আপনে গো এত দরদ উপচাইয়া পড়ছিল ক্যান? বাকি এক কোটি লোক তো শরনার্থী হইয়া তারা তাদের জান বাঁচাইলো, সারা ভারত হাইগা মুইতা নষ্ট কইরা হইলেও বাচ্চার ফুডাইছিল... আর বাকি সাড়ে ছয় কোটি হক্কলে তো দেশেই আছিল.... নাকি? তাইগো কি মায়ামমতা কম আছিলো এই দেশের জন্য? এইডা কি মনে করেন? আবার কোন কোন পাকিস্তানের প্রেমিক ইসলামের খাদেম ভাইয়েরা ধর্ম বাঁচানোর লাইগ্গা একটু আধটু রাজাকার, আল বদর হইছিল... তাই তে কি! তারাও তো এই দেশেরই পোলা.. যুদ্ধের ময়দানে তারা তিরানব্বই হাজার ইসলামের খাস খাদেম পাকিস্হানের সৈন্যবাহিনী ইসলাম রক্ষার জন্য তাদের দেশের বউ পোলাপাইন রাইখা সেই সুদুর পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ পাঞ্জাব,বেলুচ,রাওয়ালপিন্ডির তারপর ইসলামাবাদ থাইকা খালি মালায়ুন গো শায়েস্তা করতে আর তাদের অপবিত্র হাত থেকে এই দেশের ইসলাম ধর্ম বাঁচানোর জন্য, আর এই কাফেরদের দেশে আইসা সত্য ধর্ম ইসলাম প্রচার করতে আসছিল তারা তাদেরকে সাহায্য করছিল মাত্র । আপনেরা সেখানেও বাধা হইলেন। তাগোরে আড়ালে আবডালে, খালে বিলে আবার সামনাসামনিও সেই ছোড মোড অশ্রগুল্লি দিয়া নাস্তানাবুদ করলেন, মাইরা ভুত বানাইলেন,গাছের লগে ঝুলাইয়া রাখলেন ! আরে ভাই... তারাতো এই মহান ধর্ম আর দেশ রক্ষার জন্যই এই দেশে আসছিল নাকি? এই মহান খেদমতের আসার সময় তো কেউ বউ পোলা লইয়া আসে নাই, বালিশও আনতে পারে নাই... তয় তাদের জননাঙ্গ তো আর থুইয়া আসতে পারে নাই। ঐটার তো একটা খায়েস আছে কি বলেন! গরু, ছাগল, হাসি মুরগী আর বাঙালী কাফেরদের বাড়ীর এই সব গনিমতের খাবার ফ্রীতে খাইলে তাদের জনানাঙ্গের উত্তেজনা বৃদ্ধি হইলে সেই খায়েস মিটাইতে এদেশের ইসলামের খাদেম রা না হয় কিছু গনিমতের মাল ... তথা কিছু যুবতী, আধা বয়সী বা কুমারী না হয় বুড়ীও তাদের সেই পাকিস্তানের ক্যাম্পে বা বাংকারে লইয়া যাইত । তেনারা তাদের খায় খেদমতের কাজে ব্যাবহার করছিল সে সকল কাফের বাঙালী মহিলাদের যারা সেই সব ইসলামের সেবকদের নির্যাতনের জ্বালায় মরলেও তে কাফের গুলাইন বেহেশত নসীব হইতো। তাতেও তো আপনারা সেই মহান ইসলামের সেবক পাকিস্তানের মুসলিম ভাইদের সহোযোগিতায় নিয়োজিত রাজাকার আলবদর গুলারেও ওপেনে গোপনে রাইতে দিনে মাইরা গাছের সাথেও ঝুলাইয়া রাখছিলেন। মনে নাই? পাকিস্তানের সেনা গুলোরে নদীর মধ্যে গানবোট ডুবাইয়া দিয়া মারতেন, আবার ধান খেত পাট খেতের আড়ালে আবডালে থাইকা, বড় রাস্তার পাশে পালাইয়া থাইকাও তো সেই সব ইসলামের সেবকদের নির্মম ভাবে হত্যা করছেন। আপনেগো ভাগ্য ভালো সেই সব পাহাড়ি আর মরুভূমির সাহসী পাকিস্তানের সেনারা সাঁতার জানতো না নইলে কিন্তু আপনেগো ও তারা খবর করতে পারতো। যাই বলেন এইডা একটা প্লাস পয়েন্ট আপনাদের জন্য। মিয়ারা সেই সব কথাও কি দেশ জাতি ভুলছে? তাগোরে আত্নীয় স্বজন নাই এই দেশে মনে করছেন ? তাগোরে গায়ে রক্ত নাই ভাবছেন? কয়জন সরকারি অফিসার বঙ্গবন্ধুর কথায় বিশ্বাস কইরা ভারতে গেছিল? মনে করতে পারেন? ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মহোদয় রাও তো ভারত যায় নাই। যদিও তারা এই দেশে বইসা গোপনে কিছু করার চয় চেষ্টা করছে। তয় তাগোরেতো শহিদ কইরা দিছে পাকিস্তানের সেনাবাহীনির নও জওয়ান রা। **শহীদ বুদ্ধীজীবি দিবস **তো তাদের জন্যই। যদিও মুক্তিযুদ্ধ কইরা দেশ স্বাধীন করলেও এই দেশে হাজার হাজার দিবস থাকলেও এখনো আইজ অবধি কোন **মুক্তিযোদ্ধা দিবস** সরকারী বা বেসরকারী ভাবে নাই। কেন নাই সেই যুক্তি তে আসবেন না কখনো। ওটা রাজনৈতিক ব্যাপার স্যাপার! শহীদ ইউনিভার্সিটির স্যারেরা তারাও চাকরি করছে বেতন নিছে। আর বাঙালী সচিব তো তখন খুব বেশী ছিল না তয় আমলাদের সহোযোগীরাও তো বঙ্গবন্ধুর কথা বিশ্বাস না কইরা বা তার আদেশ মাইনা ভারত যাওনের চিন্তাও করে নাই। যুদ্ধে যাওন তো তো দুরের কথা। এই দেশে থাইকা তথাকথিত দেশ প্রেমের ছবক নিছে তারা এই দেশের সহি মুসলমানদের কাছ থাইক্কা। আরে ভাই.... আপনেরা হইলেন অতি বিশ্বাসী যুবক ছিলেন তখন। অতি বিশ্বাস ভালো না।** অত: ভালো ভালো না ** শেনেন নাই ময় মুড়ুব্বীদের কথা। আইজ যদি আল্লাহ না করতেন এমন হইতো... মনে করেন যদি এই মুক্তিযুদ্ধে আপনেরা হাইড়াই যাইতেন তাইলে কি হইতো? জানেন? আপনেগো স্বাধীনতার ঘোষনা যিনি দিয়েছিলেন সেই জাতির পিতা বঙবন্ধু শেখ মুজিবের কি হইতো? তার জন্য কি আজকের এই ***শত বর্ষের মুজিব বর্ষ *** পালন করতে পারতেন? তিনি কি এই বঙ্গবন্ধু বলে স্বকৃীত হতেন? রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী , জুলিওকুড়ি, বা জাতির পিতা? না মনে হয় না... বরং এক কথায় সেই রাওয়ালপিন্ডি জেলে বিনা জিজ্ঞাসায় তাকে ফাঁসির রশীতে লটকাইয়া একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে দেশদ্রোহীতার অভিযোগে ও তাদের পাকিস্তানের জাতীর সাথে বেঈমানী করার দুঃসাহস দেখানোর জন্য ঐ ফাঁসী কার্য সম্পাদন করে পৃথিবীতে একটা নজীর উপষ্হাপন করতো পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার। তা কি বেঝেন আপনেরা? ? কথা ডা কি মিথ্যা কইলাম।? আর আপনেগো চৌদ্দ গুষ্ঠিতো সারাজীবন কালা তালিকায় থাকতো... সরকারি চাকরি তে দুরের কথা মুচি,সুইপার আর বাড়ীর বিনা বেতনে আজীবনের জন্য ক্রীতদাস হইতে হইতো আপনেগো আর পোলাপান গুলা দাস আর মাইয়া গুলা হইতো যৌনদাসী.. বুঝলেন মিয়া,? আর আপনেরা তো মইরা এতদিনে তাদের ভাষায় **গাদ্দার*** হইতেন। রেড ইন্ডিয়ানদের মত বা এই দেশের আদী ভূমিপুত্র সুদ্রদের মত গলায় আর মাজায় খেজুরের বউগরা লাগাইয়া চলতে হইতো। বুকে পিডে কলশী ঝুলাইয়া পথ চলতে হইতে মাইয়া পোলা সহ লাইন ধইরা। এত কিছু বুইঝা জাইনাও আপনেরা বোকার মত পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে গেলেন কেমনে? কোন সাহসে এতবড় সাহস করছিলেন? কন? আপনেরা আসলে পাগল আছিলেন। বঙবন্ধু শেখ মুজিবের সব কথা সরলভাবে বিশ্বাস করতেন পীরের আদেশের মত। আইচ্ছা বলেন তো দেখি চিন্তা .. কইরা বইলেন.. বঙ্গবন্ধু যে ২৬ শেষ মার্চ রাতের ১২ টা এক মিনিটে স্বাধীনতা ঘোষনা করলেন, ইপিআর, ইউনিভার্সিটির হল গুলো (মহিলা হল সহ) রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকি হামলার পরে ... কাকে তিনি শেষ শত্রুর বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আদেশ দিলেন? তারপর তিনি বন্দী হলেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কাছে। তার কি কোন প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী ছিল? গোপনে বা প্রকাশ্যে? ছিল না... তয় আপনেরা খালি পায়ে, মাঠ ময়দান, খেত..খামার,হওর বাওর, বিল নদী আর পাহাড় পর্বত ডিঙ্গাইয়া, হাত পাও কাইট্টা, মাথা ফাডাইয়া তার পর বঙ্গবন্ধুর কথার, তথা স্বাধীনতা ঘোষণার মান রাখছিলেন। না ভাবছেন পরিবার পরিজনের কথা না ভাবছেন নিজের জানের কথা । পাগল ছাড়া কি কেউ এমন কাম করে? তা যাউক নয় মাস যুদ্ধ করলেন । দুনিয়ায় বড় বড় পরাশক্তির বিরুদ্ধে যাইয়াও নিজ দেশ স্বাধীন করলেন। আমেরিকা, চীন আর বড় বড় মুসলীম রাস্ট্রগুলারে বইড়া আঙ্গুল দেখায়ইয়া বুক উচা কইরা পরিচয় বানাইলেন,শুনাইলেন আপনেরা বীর বাঙালী জাতি হইলেন । তাবৎ দুনিয়ায় মধ্য নতুন বাঙালি বিজয়ী জাতিও হইলেন। জাতীয় পরিচয় আনলেন, পতাকা দিলেন। এত কিছু কইরাও আপনেরা আবার কি চান,?.... ক্ষমতা??? আরে ভাই... ক্ষমতা তো রাজনৈতিক নেতাদের জন্য বান্ধা। আপনেগো কাম আপনেরা করছেন। বীর খেতাব পাইছেন... পেডে ভাত থাউক না থাউক তাতে কি বীরের তকমা লাগাইয়া হাসপাতালের সীটের চৌকির নীচে শুইয়া চিকিৎসা নিবেন। আপনেগো বাচ্চা বাচ্চা নতুন পুরাতন ডাক্তার গুলা মারতে আসবে। সার্টিফিকেট দেখাইলে তা ছিইড়া ফেলাইবো, বেইজ্জতি কইরা অপমান করবো। চেয়ারম্যান মেম্বার রা সালীশের নামে গলা টিপা হত্যা করবো , কান ধরে নাকে খত দেওইয়াবো, যায়গা জমি দখল নিবে,আপনার মেয়েকে ধর্ষন করবো, গায়ে এসিড মারবো তাতে কি দেশের জন্য প্রান দিতে গেছিলেন এখন ইজ্জত মান কি প্রানের চেয়েও বড় কোন বিষয় নাকি? এইটাও দিবেন মন্দ কি? কন? নথী কি বলে,,? প্রান বাঁচলে সব। তা সামান্য ইজ্জৎ এ কি হইবো? এগুলা বাদ দেন মিয়ারা । এই আপনের স্বাধীন কইরা আনা বাংলার মাটিতে দাড়াইয়া এম পি রা কয় * বালের মুক্তিযোদ্ধা! * * হাঃহাঃহাঃ তাও আবার আওয়ামী লীগের এম পি। বাঁশখালির এম পি বাঁশডলা দিল মুক্তিযোদ্ধা গো। বিনা পয়সায় রাষ্ট্রীয় জানাজা দিতে অস্বীকার করলো। তাতে কি জাতির জনকের কন্যা দেশ মাতা উন্নয়নয়ের কারিগর মমতাময়ী মা তো ক্ষমতায়। এতেই তো চলবো। সমস্যার কি? আপনে যুদ্ধে পরাজিত হইলে তারা কে কোথায় থাকতো সেই চিন্তা এখন কি মাথায় আনলে চলবো? কোটা ফোটা এইগুলা বহুদিন খাইছেন। খান না খান, চাকরি পান না পান তাতে কি কোটার খোটাতো আছিল। * হাতে মাথায় গায়ে পায়ে ** আমি রাজাকার... মুজিব আমার বাপ*-- এদের তথাকথিত আন্দোলনের ভুয়া ভয় দেখাইয়া আপনেগো বেইজ্জত করলো আমাদের জাতির পিতার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তাতে কি আওয়ামী লীগ তো ক্ষমতায়। আগামী একশত বছরের দেশের জন্য,ক্ষমতার থাকার জন্য প্লান রেডি। আপনারে লইয়া ভাবনের সময় কোথায় তাদের? * সেই থালা থালা ছানা সন্দেশ খাওয়া ঘরে বইসা থাকা রাজনীতিবিদ নেতার কবিতার কথা মনে নাই মিয়া? শোনেন মিয়া.,.. জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু, তারেতো ১০ ই জানুয়ারী পাকিস্তানের কারাগারের হীম শীতল ঘরের থেকে আপনেরা যুদ্ধ কইরা জিতনের ফলেই তো আনতে পারছিলেন নাকি? ইন্দীরা গান্ধী কইছিল তোমরা পাকিস্তানের এই সেনাগো যদি না ছাড়ো আর বিচার করো তয় কিন্তু তোমাগোর নেতা শেখ মুজিবর কে পাইবা না। তারে তারা ঐ পাকিস্তানের কারাগারে ই মইরা ফেলাইবো। আপনেরাতো আপনাদের দের নেতা বাংলার নৌকার একমাত্র মাঝি মুজিবরেই ফেরৎ চাইছিলেন আর তাগো তিরানব্বই হাজার পাকিস্তানের সেই সব জানোয়ার গুলাইন ( ইসলামের খাদেম) যারা আপনেগোর তিরিশ লাখ তরতাজা মানুষ মারলো আর বাড়ী ঘড় পোড়াইলো, গরু বাছুর হাঁস মুড়গী আর লাখ দুয়েক মা বইনের ইজ্জত নিলো.. তাগোরে ফিরাইয়া দিয়া... কোন বিচার না কইরা, একটা ফুলের টোকাও না দিয়া তোমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ফিরাইয়া আনলা তাদের প্রানের বিনিময়ে। তিনি আসলেন আর আইসাই দেখলেন দেশ স্বাধীন। তাজউদ্দীন আর সৈয়দ নজরুল , মনছুর আলী,কামরুজ্জামান সাহেব গং তারা এই গাইয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়া দেশ সত্যি সত্যি স্বাধীন কইরাই ফেলাইছে। তিনি তো আগেই ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি... কেমন কইরা এত বড় কামডা তারা এই গাইয়া অশিক্ষিত গামছা পড়া পোলাপাইন দিয়া সম্ভব করছিল তা তিনি ঘ্রুনাক্ষরে একবারও তাজউদ্দীন সাহেবেরে ডাইকা জিজ্ঞেস করলেন না। কেন জিজ্ঞেস করলেন না তা কেডা জানে? এইডাই হইল আসল আসল রাজনীতি!. তিনি তো (বঙবন্ধু)আপাদমস্তক রাজনীতিবিদই ছিলেন। তার আসে পাশে তখন বহু রাজনীতিবিদ নেতা,লোক লয় লষ্কর আর তোষামোদকারী আতিবুদ্ধিমান পাতি নেতা সকলেই মুজিব ভক্ত আর মুজিব আদর্শের সৈনিক। কিন্তু যুদ্ধ করে নাই একজনও । মুজিব কোট পইড়া মুজিব আদর্শের সৈনিক তারা তথা তারাই হইলো বুদ্ধিদাতা,... তখন তার বুদ্ধিদাতার অভাব না-ই। কিন্তু যুদ্ধের মাঠে যাওনের সাহস ছিল না একজনের ও। যদি মইরা যায়... তয় কারা এই দেশ চালাইবো? মুর্খদের দিয়া তো যুদ্ধ চলে কিন্তু দেশ তে শাসন করা চলে না। পাকিস্তানের জামাই ডঃ কামাল ও একই সাথে একই বিমানে বঙ্গবন্ধুর পাশে বইসা এই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে তাদের( পবিত্র?) পদধূলি দিয়ে তোমাদের মাথায় রাখা কাঁঠালের কোষ খাওয়ার ব্যারিস্টারী বুদ্ধি মাথায় নাড়াচাড়া করতে লাগলো। কে কি বুদ্ধি দিল বঙ্গবন্ধু মুক্তিদের,... ৩১ শে জানুয়ারী ১৯৭২ এ ডাকলেন ঢাকা ষ্টেডিয়ামে। বঙবন্ধু লক্ষ কোটি জনতারে বলেছিলেন ** এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ***বলে ছিলেন মুক্তি সংগ্রাম। এবার সেই ঢাকা র মাঠেই মুক্ত দেশে মুক্ত করা মুক্ত পতাকার নিচে তারই পায়ে তারই আদর্শের একান্ত পরিক্ষিত সময়ের সাহসী সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা অশ্রুশিক্ত নয়নে অশ্র জমা দিলেন তাদেরই মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের ( বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ই তাকে এই মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়েছিল) নির্দেশনা মেনে । তাজউদ্দীন সাহেবের তৈরি মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন এর জন্য মিলিশিয়া ক্যাম্প ভেঙে দিলেন রাজাকারদের জন্য কাজ করা তৎকাকীন পুলিশের প্রধান তসলীম কে..... স্বরাষ্ট্র সচিবের মর্যদা দিয়ে। যে কিনা রাজাকার তৈরীর প্রধান কারিগর ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কে বলে তার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলিশিয়া ক্যাম্প ভেঙে দিলেন এক আদেশেই। কি বিচিত্র তাই না। না তিনি( বঙবন্ধু ) মুক্তিদের বল্লেন **তোরা যার যার বাড়ি ঘরে ফিরে যা** কেউ টু শব্দ করে নাই নেতার নির্দেশ। প্রত্যেকে খালি হাতে আপনারা বাড়ি চলে আসলেন। **********(দ্বিতীয় পর্ব) ******* *****মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের কালো অধ্যায়***** হ্যাঁ... আমরা বাড়ি চলে এসেছিলাম আর নতুন নতুন বিরম্বনার স্বীকার হচ্ছিলাম। একবার মন থেকে অনুধাবন করুন যে যুবক ছেলেটি বিগত নয় মাস একটি প্রশিক্ষিত গেরিলা হয়ে একটি সশশ্র যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে একদম খালি হাতে বাড়ী ফিরে আসে তখন তার বা তাদের এই দলভুক্ত সকল সদস্যগুলোর মনের অবস্থা কতটা সঙ্গীন হয়ে দাড়ায়। ভাবুন তো এমন একজন মুক্তিসেনার পক্ষে নতুন করে কি কোন কাজ যোগানো সম্ভব? বা আদৌ দেশের ঐ মুহূর্তে কি তাদের বেঁচে থাকার কোন কর্মপন্থা যোগাড় করা কি আদৌ সম্ভব ছিল যা থেকে তারা নতুন করে আয় রোজকার করতে সক্ষম হতে পারতো? মনের বিশৃঙ্খলা কার্যত দৈহিক রুপে রুপান্তরিত হতে আরম্ভ করলো। হতাশা যুক্ত হলো প্রত্যেক টি মুক্তিযোদ্ধার অন্তরে আর মনে। না পারে কইতে না পারে সইতে। বাড়তি বোঝা হয়ে দাড়ালো তারা তাদের প্রত্যেকটি পরিবারের উপর। তারা হাতে অশ্র থাকতে সমাজে, বেক্তিতে বা প্রশাসনের কাছে যে সন্মাম টুকু পেতো তা এখন অনেকটা অবহেলায় পরিনত হতে থাকলো প্রতি নিয়ত, সবখানে ও সব ক্ষেত্রেই। এসব কারনে ক্ষোভ আর ক্রোধ একত্রে মনে দানা বাধতে থাকলো। একজন অশ্রধারী লোক ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বেক্তি অশ্রহীন হলে সে বিষহীন অজগরের মত বা দন্ত বীহিন বাঘের মত হয়ে যায়। সামাজিক ভাবে মূল্যহীন ও অর্থ উপার্জনের পথ না পেয়ে গ্রাম গন্জের অর্ধ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মুক্তিরা তখন চরম বিপাকে পড়তে হলো। তাজ উদ্দিন সাহেবের প্রস্তাব মতে মিলিশিয়া বাহিনী তৈরী করে এই সব যুদ্ধ ফেরৎ বীরদের পুনঃবাসন করা হলে তাদের বরাতে আজকের মত এমন বিপর্যয় হতো না বা সমাজিক ও মানসিক দৈন্যাতার স্বীকার হতে হতো না। জাতির জনকের নিকট জনাব তাজউদ্দিন সাহেব নিজ হস্তে তিনি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য এমন পরিকল্পনা যুক্ত একটি ফাইল বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে তিনি দিয়েছিলেন। অঙাত কারনে সেই ফাইলটি হাওয়া হয়ে যায়( তথ্য সুত্র আবুল কাশেম চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা এর বিগত লেখা) যার হদীস আজো কেউই পায় নি। মুলত তাজউদ্দীন সাহেব যুদ্ধ কালীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অত্যন্ত কাছ থেকে তাদের বীরত্ব, কার্যক্ষমতা, দেশপ্রেম আর একটি সুশৃঙ্খল বাহীনির সবটুকু ই তারও তার সাথের চার জাতীয় নেতাদের নেতৃত্বের বদৌলতে তৈরী হওয়া ইমেজ বুঝতে পেরেছিলেন। যা বঙ্গবন্ধু যদিও বুঝতে পারতেন তবুও তৎকালীন রাজনৈতিক ভাবে তার কাছের ছদ্মবেশী মোস্তাক গং এর অনুপ্রোরচনায় তা হয়ে উঠতে দিন নি তারা তাকে। আসলে মুক্তিযোদ্ধারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন না কোন ভাবে এ দেশের উচু, মধ্য ও নিন্ম সব শ্রেনীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে কার্যত প্রতিহিংসার স্বীকার বা গভীর কোন ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে আসছি। সত্য বলতে যদিও রাজনৈতিক নেতারা প্রকাশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গুনগান করলেও বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মুখে বল্লেও কার্যত সতীনের সৎ পুত্রের মত আচরণ প্রথম থেকেই পেয়ে আসছিলাম আমরা। তাদের পেছনে পেছনে মুক্তিদের ঘুড়ানোতেই তাদের আনন্দ। ভাবখানা এমন যে ***তোরা মুক্তিযোদ্ধারা গাধার দল যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও আজকে চেয়ে দেখ আমরাই মূল ক্ষমতার অধিকারী। এখন বুঝে দেখ তোর আর আমার পার্থক্য **। প্রতিপক্ষ ভাবাই, এহেন কার্য্যের কারন হতে পারে। সত্যি বলতে এভাবে নিগৃহীত হতে হবে আমরা তা ঘ্রুনাক্ষরেও কেউ কোনদিনই বুঝতে পারিনি। আমাদের ধারনা ও প্রচুর বিশ্বাস যে ছিল বঙবন্ধু যেখানে আছে সেখানে আমাদের জন্য তিনি একটি সুন্দর স্হায়ী ব্যাবস্থা করবেনই। তিনি তো আমাদের পিতা। আমরা তার স্বপ্ন বাস্ত বায়নের বরপুত্র।সময়ের পরিক্ষিত সাহসী সন্তান , জাতির জনকের আসল সৈনিক আমরাই। তিনি আমাদের কখনই বন্চিত করতে পারেন না। আমাদের নেতা আমাদের প্রত্যেক টি মুক্তিযোদ্ধার স্হায়ী ঠিকানা তিনিই এমন ভাবনা ছিল আমাদের সকলের ই অন্তরের অন্তস্হলের অপার বিশ্বাস । আমাদের যা প্রয়োজন তার যাবতীয় ব্যাবস্থা তিনিই করবেন।.... .....এদিকে সময় গড়িয়ে যায় অসৎ সামাজিক শক্তিরও উত্থান ঘটতে থাকে। প্রশিক্ষন প্রাপ্ত মুক্তিরা একদিকে হতাসা, আর্থিক প্রয়োজন আর সামজিক দৈন্যতার সাথে প্রতিহিংসার স্বীকারও হতে থাকে তারা। বিপথ ও বিপদের পথে কেউ কেউ ধাবিতও হয়ে যায়। প্রশিক্ষন প্রাপ্ত যোদ্ধাটি বসে থেকে থেকে জং পরা লোহার মত অকর্মণ্যতা রোগে পেয়ে বসে ফলে সে যে কোন ভাল বা মন্দ কাজ চায়... আর অসৎ লোকেরা তাদেরকে এদের এহেন হীন দশা পুঁজি করে তাদের নিজ স্বার্থের কাজে লাগাতে এগিয়ে আসে। এমনই একটা পরিস্থিতিতে তখন রাষ্ট্রের নতুন বৈধ অবৈধ রাজনৈতিক সংগঠন তৈরী হয়েছিল। যেমন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল, আ স ম রব এর জাসদ, এর গোপন রাজনৈতিক উইং সসশ্র* গনবাহীনি, * সিরাজ শিকদারের গোপন *সর্বহারা পার্টি *এবং কমিউনিষ্ট পার্টির বহুদা পূর্ব বাংলা,,ন্যাপ কমিউনিস্ট বাহিনীর আবির্ভাব হতে থাকে। এতে এই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিরা বুঝে না বুঝে বা নতুন গোপন অশ্র প্রাপ্তির লোভে এসব বাহিনীতে কেউ কেউ কার্যত যুক্ত হয়ে পড়ে। আসল সত্য এই যে মুক্তিযোদ্ধাদের মত একটি বিশাল বাহিনী সরকারের সদ্বিচ্ছা থাকলে যে কোন বাহিনীর নামে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে রাখলে এরা দলছুটও হতো না বা এমন সব গোপন বাহিনীর আহবানে সাড়াও দিতে পারতো না। বঙবন্ধু হয়তো এমনটা তার হিসেবেই আনেন নি। এতে মুক্তিযোদ্ধারাও হতাশাগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে কেউ কেউ (যারা ভুলপথে পরিচালিত হয়েছিলেন) এমন পথ অবলম্বন করতেন না বা করতে পারতেন না নিশ্চিত। ভুল টা ওখানেই নিহীত ছিল। কিন্তু কেউ তা তলিয়েই দেখেই নি। এভাবে কেউ কেউ এসব নতুন বাহিনীর সদস্য হয়ে শ্রেনী শত্রু খতমের নামে সামজিক নেতৃত্ব হত্যা বা আক্রমণ বা বেঁচে থাকার জন্য চাঁদাবাজী , ডাকাতি কিংবা লুটতরাজ আরম্ভ করলো। গোপন বিচারের ব্যবস্থা চালু করে কাউকে কাউকে মৃত্যুদন্ডও দিতে আরম্ভ করলো। অর্থাৎ বিচার শালিশ ব্যবস্থাও তারা এই গোপন দলগুলোর নামে হস্তগত করে চললো। মুক্তিযু্দ্ধের শেষ মুহূর্তে আমাদের বিজয় অবসম্ভ্যাবি ভেবে বহু লোক ভারত মূখী হয় একেবার শেষ সময়ে আর চৈনিক পন্থী কিছু দলীয় লোক কেবল মাত্র অশ্র সংগ্রহের একটা মোক্ষম সুযোগ মনে করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিল। তবে মুক্তি বাহিনী বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়ে অশ্রজমা দিয়ে নিরশ্র হলে তাদেরকে ব্যাবহারের বিষয়টি কার্যত তাদেরকে সেই আশার আলো এই হতাশাগ্রস্ত মুক্তিদের তাদের দলে টেনে নিতে বেশ সুভিদাই হয়েছিল। এরকম ক্ষেত্রে দলে দলে কোন্দল , বা দলপতিদের ক্ষমতার দন্দেও মারামারিও হত্যা হতো। একদল আরেক দলকে হত্যা করতো আবার থাকতো পরবর্তী প্রতিশোধের পালার জন্য । কিন্তু সত্যি বলতে দেশের স্বাধীনতার সূর্যসন্তানরাই আত্ম কলহের জন্যই বুঝে বা না বুঝে নিজেরাই নিজেরা মারামারি করে শেষ হচ্ছিল। অন্য দিকে জাতির জনক দেশ গঠনে হাত দিলেন। কিন্ত এসব বিষয়ও তার মাথাব্যথার কারন হয়ে উঠছিল। এমন বাধা বিপত্তি হতে পারে হয়তো তিনিও ধারনা করতে পারেন নি। তার হয়তো ধারনা ছিল যে সকলে মিলে মিশে কাজ করে দেশ উন্নতি করবে। কিন্তু মুজিবের বিরুদ্ধে ও যে লোক থাকতে পারে বা বিরোধী দলও হতে পারে তা তিনি এই নতুন দেশের ক্ষমতায় বসে টের পেতে আরম্ভ করলেন। তারই কিছু এককালের অতি নিকটতম সহচরেরা গোপনে বা প্রকাশ্যেই তার বিরোধীতা করে তাকে তার উদ্দেশ্যে আঘাত হানতে থাকলো। বর্নচোরা বেঈমান মেস্তাক গং, চাষী নজরুল ও আরো বহু জানা অজানা শত্রু তখন মুজিবের ঘরে বাইরে। তাজউদ্দিন সাহেব কে বঙ্গবন্ধু কে ভুল বুঝিয়ে তার প্রতিপক্ষ ভাবতে সহোযোগিতা করেছিলেন এই ধুরন্ধর বঙ্গবন্ধু বিরোধী গোষ্ঠীরা। কারন এরা জানতো মুজিবকে ধংস্ব করতে হলে তার বিশ্বস্ত এই চার জাতীয় নেতাদের দুরে সরিয়ে রাখতেই হবে। কার্যত তারাই বঙ্গবন্ধুর অতি নিকটে হয়ে এমন দুঃসময়ের বন্ধু,বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহযোগী নেতাদের দুরে সরিয়ে নেয়। আর তারাই বঙ্গবন্ধুর একান্ত কাছে গিয়ে তাকে ঘিড়ে ফেলে । পথভ্রষ্ট করতে যা যা দরকার তাদের লোকেরা বাইরে মুজিবের বিরুদ্ধে যাবতীয় বদনাম করতো আর উপরে বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন ভুলপথে ধাবিত করতে প্রচেষ্টা করতে থাকে। তিনি রক্ষী বাহিনী তৈরি করেছিলেন। সেখানেও কিছু মুক্তিযোদ্ধারা যোগদান করে ছিল। তবে তা নেহাৎ কমই ছিল। তবে এই বাহিনীটিতে মুলত এদেশে কয়েক জন ভারতীয় সেনা অফিসার ও জুনিয়র কমিশন্ড ও নন কমিশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত করায় এটাকে অনেকে ভারতীয় বাহিনী বলে বঙ্গবন্ধু শত্রুপক্ষের লোকেরা প্রচার করতে প্রয়াস পায়। আদতে তা ছিলনা। এটা একটি প্যারামিলিটারী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। আদৌ সামরিক বাহিনীর সমকক্ষ নয়। সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে তবে এই বাহিনীর নন কমিশন্ড, জুনিয়র কমিশন্ড ও কমিশন্ড প্রাপ্ত অফিসারদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের দেরাদুন সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই রক্ষীবাহিনী সদস্য রাও তৎকালে দেশের বিভিন্ন থানা, মহকুমা ও জেলা শহরে ক্যাম্প করে ঐ সব অবৈধ বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করতে থাকে। সমস্যা টা সেটা নয়। প্রকৃত পক্ষে একটা রাজনৈতিক ভুল যে একটা দেশের স্বাধীনতার সূর্য সেনারা ভুল সিদ্ধান্তের কারানে কিভাবে ধংস্ব হতে পারে যুদ্ধ পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধাদের অশ্র জমা নিয়ে বাড়ী ফেরানোর কারনে তার ঐতিহাসিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে লাগলো। রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা যাদের ধরতো আর আর হত্যা করতো তাতে মুক্তিযোদ্বাদের একটা ভুল বা বিপদগামী অংশের সদস্যরাও ছিল। প্রসংগত দেখা যায় যে যে ভাবেই মরুক মরছে তো মুক্তিযোদ্ধারাই। ****এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের উন্নয়নে হাত দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিকুল পরিবেশ উপেক্ষা করেই তিনি এগিয়ে চলছিলেন। সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ এর আদর্শ সমুন্নত রেখে সেই দূর দৃষ্টিতে তার আপোষহীন পথ চলা অব্যাহত রাখছেন। তিনি গনতন্ত্রের স্বার্থে রাষ্ট্রপতি পদ পরিত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহন করলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ের বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী জনাব তাজ উদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলেন। তবে তাকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পদ অর্থ মন্ত্রীপদে অধিষ্ঠিত করলেন বঙ্গবন্ধু। এ পর্যন্ত ভালোই চলছিল তবে রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের কলকাঠি যারা নাড়েন তাড়া বড়ই ধূর্ত শিয়ালের চেয়েও এক কাঠি সরস। অল্পদিনেই এই ষড়যন্ত্রের পুরো ধারাটি বঙ্গবন্ধুকে ঘিড়ে গ্রাস ফেললেন। তারা সময়ের বিশ্বস্ত ও সাহসী বঙ্গবন্ধুর অপার স্নেহের অধিকারী জনাব তাজ উদ্দিন কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিপক্ষ ও উচ্চাভিলাসী হিসাবে বলে বঙ্গবন্ধুর কান ভারী করতে থাকলেন। মুলত রাজনীতি এমন একটা যায়গা যেখানে ক্ষমতাসীন বেক্তি যদি আপন পুত্রকেও তার প্রতিপক্ষ হিসাবে একবার ভাবেন তবে তাকেও ক্ষমা করা হয় না। অন্তত ইতিহাসের পাতায় এমন হাজার হাজার উদাহরণ পাওয়া যাবে। যাই হোক বঙ্গবন্ধুও এর ব্যাতিক্রম হতে পারেন নি। ষড়যন্ত্রকারীদের পাতানো ফাঁদে তিনিও পা রেখে তাজউদ্দীন সাহেব কে ভুল বুঝতে আরম্ভ করলেন এবং পরবর্তী তে তাকে অর্থ মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের আদেশ দিলেন। তাজ উদ্দিন সাহেব সত্যিকারেই তার নেতার প্রতি তথা বঙ্গবন্ধুর প্রতি আজীবন বাধ্য ছিলেন। কোন দ্বীতিয় বিকল্প চিন্তা না করেই তিনি পদত্যাগপত্র বঙবন্ধুর নিকটে পেশ করলেন। এদিকে পাকিস্তানের জামাতা ও যুদ্ধ কালে পাকিস্তানে থাকা ব্যারিস্টার ডঃ কামাল হোসেন সাহেব ও ব্যারিষ্টার আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীন দেশের সংবিধান রচনার দায়িত্ব বঙ্গবন্ধু তাদেরকে দিলেন। তারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে জাতির জনকের নির্দেশনা মত আমাদের জাতীয় প্রধান দলীল, রাষ্ট্রের রক্ষা কবজ সংবিধান মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তা তৎকালীন মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে তাদের বঙ্গবন্ধু দেয়া অর্পিত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন। সকল তৎকালীন মাননীয় সংসদ সদস্যদের বিপুল ভোট ও করতালির মাধ্যমে জাতীয় সংসদের তা পাশ হয়ে বিশ্বের যতগুলো উচ্চমানের সংবিধানের জানা মতে খবর পাওয়া যায় তার মধ্যেও অন্যতম বলে স্বকৃীত হলো। ভালো আমরা মুক্তিরা কিছু না-পেয়ে ও সুখী। রাষ্ট্র তো বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে... সমস্যা কি। কিন্তু বাস্তবতা জানা গেল প্রায় চল্লিশ বছর পড়ে.. দেশের প্রখ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আবীর আহাদ সাহেবের একান্ত প্রচেষ্টার কারনে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারলাম যে যে সংবিধান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংবিধানের একটি সেই এত বড় সংবিধানের কোন একটি স্থানেও এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্কে কোন অনুচ্ছেদ বা উপর অনুচ্ছেদ তো দুরের কথা বরং সমস্ত সংবিধানের কোথাও আজও আপনারা( সন্নানীয় পাঠক বৃন্দ গন) কোথাও ***মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধা এই দুটি শব্দই কোথাও পাবেন না। সপ্তম আশ্চর্যের পর এটাই বোধ হয় অষ্টম আশ্চর্য ঘটনা। একটু ভাবুন তো যে দেশটি একটা দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন , ত্রিশ লক্ষ গনমানুষের এক সাগর রক্তের আর দুলক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জন এবং সেখানকার অকুতোভয় এই ইতিহাসের সত্যিকারের নায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের কৃত সেই যুদ্ধের কোন শব্দতেই তাদের কে রাষ্ট্রের স্বীকৃতীপত্র বা রাষ্টের মুল দলিলে তাদের নামই কোথাও রাখাই হলো না। রাজনীতি বলে কথা তবে তা এত বড় নিকৃষ্ট জঘন্য? জাতীয় কৃতঘ্নতার এর চেয়ে নিকৃষ্ট উদাহরণ আর কি হতে পারে? বিশ্বের অন্য যে সব রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে তাদের দেশের জাতীয় ইতিহাসের পাতা খুঁজলে কি এমন নিকৃষট কৃতঘ্নতা পাবেন? একটি প্রশ্ন এসেই যায় বঙ্গবন্ধু কথা ছাড়া কি এমন একটি তুঘলকি ভুল করা ডঃ কামাল বা ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের পক্ষে তা করা সম্ভব ছিল? বা এমন ধৃষ্টতা করা তাদের সাহস হতো? এতগুলো সাংসদ তারা কি কেউ তা একটুও দেখলো না? তা হলে কি ভাবে এই সংবিধান বিশ্বের সেরা সংবিধান হতে পারে যেখানে রাজনৈতিক চক্রান্ত আর কৃতঘ্নতায় আচ্ছাদিত? অনেকে এই বলে সান্তনা দেন আমাদের যে তখন সদ্য স্বাধীন দেশে তাড়াহুড়ো করে সংবিধান রচনা করতে গিয়ে এমন ভুল হয়ে গিয়ে থাকতেই পারে। তাদেরকে জিঙেস করি তিন শত সাংসদ যেখানে মুক্তিযোদ্ধা,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং এই যুদ্ধের নেতৃত্বদান কারী দলটি ক্ষমতায় সেখানে রাষ্ট্রের বীরদের অবদানের একটি প্রচ্ছদ থাকার কথা সেখানে এই দুটি শব্দকেই উহ্য করে প্রক্লেমশনে বলা হলো** আমরা মহান সংগ্রামের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীন করিয়াছি ** বস্তুত এটাই কি সত্য ইতিহাস? এখানেও রাজনৈতিক একটা বিরাট প্যাঁচ খেলে দেওয়া হলো আর তা হলো সংগ্রাম আর মুক্তি যুদ্ধ শব্দের পার্থক্যাতা। সাধারণত সংগ্রাম তো রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বারাই রাষ্ট্রের স্বার্থে বা কোন রাজনৈতিক দাবী আদায়ের স্বার্থে পরিচালিত হয় কিন্তু মুক্তি যুদ্ধ কি তাই? একটি সশস্ত্র যুদ্ধ আর সংগ্রামের সঙ্গা কি একই? ভাষাবিদ যারা আছেন এই দুটি শব্দের পার্থক্যা নির্নয়ে এমনটা ভুল নিশ্চয়ই করবেন না। তা হলে দেশের সারে সাত কোটি লোকের সংগ্রামের ফলে স্বীকার করে প্রক্লেমপশনে উল্লেখ করলেন তা কি সত্য ছিল? হ্যাঁ সংগ্রাম তো আমরাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা মতে সেই ১৯৫২ থেকেই ভাষা আন্দোলনের পর থেকে করে আসছিলাম ১৯৭১ এর ২৫ শপথ মার্চ পর্যন্ত কিন্তু ১৯৭১ এর ২৬ শে মার্চ রাত ১২ টা ১ মিনিট পর্যন্ত। এর পূর্ব পর্যন্ত সেই ছয় দফা,এগার দফা, জাতীয় নির্বাচন ইত্যাদি সকল কিছু ই সংগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করা যায় আইনত। কিন্তু সেই ২৫ শেষ মার্চের ভয়াল রক্তক্ষয়ী পাকিস্তানের সেনা কর্তৃক গনহত্যার কালের বা সময়ের পর বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়ী থেকে বঙ্গবন্ধু নিজ কন্ঠে যে মহান **স্বাধীনতার ঘোষণার*** অব্যবহিত পরে তা কি আর সংগ্রামের অন্তর্ভুক্ত ছিল? এ প্রশ্ন জাতির কাছেই রইল। তাহলে জাতির জনকের সেই ঘোষণায় কেন শেষ শত্রুকে যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ছিল। যুদ্ধ ছাড়া কি এই দখলদার বাহিনীকে সংগ্রামের মাধ্যমে তাড়ানো সম্ভব ছিল? আরো প্রশ্ন করি বঙ্গবন্ধু কাকে সেই দখলদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিলেন? তার কি কোন প্রকাশ্য বা গোপন বাহিনী ছিল? সত্যি বলতে কিছুই ছিল না। সারে সাত কোটি জনতাকে তার কৃত সংগ্রামের ফলে তিলে তিলে গড়ে তোলা আন্দোলনের উপর নির্ভর করেই তিনি এই ঘোষণার সাহস করতে পেরেছিলেন সত্য কিন্তু নিরশ্র একটি জাতির পক্ষে তার সেই স্বাধীনতা অর্জনের কতটুকু সমর্থ ছিল তাতো কম বেশী সকলেই ইতিহাসের পাতা ঘাটলে পেয়ে যাবেন। বাস্তবতায়** যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বললেও** বাঁশের লাঠি বা দেশীয় অশ্র কিংবা কারো কারো হাতে থাকা গাদা বন্ধুক ই সম্বল তখন ছিল। কিন্তু তাই দিয়ে এমন একটি রেগুলার মিলিটারি যারা অত্যাধুনিক অশ্রে ট্যাংক কামান, বিমান, নৌ বাহীনির শক্তিতে বলবান আর এতে সমর্থবান আর চৌকশ পৃথিবীর সেরা একটি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে দাড়ানো সম্ভব ছিল? আর সারে সাত কোটি সকলেই কি তার এই আদেশ মেনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিল? তাহলে কারা হয়েছিল রাজাকার, আলবদর, কারা হয়েছিল আল সামস? কারা এই পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাহায্য করে ছিল? কারা ঘড় বাড়ি চিনিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাও স্বাধীনতার পক্ষের আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি ঘরে হত্যা লুন্ঠন ও অগ্নি সংযোগ,ধর্ষণের সহোযোগিতা করেছিল? আসলে একমাত্র এই দেড়লাখ অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত বীর মুক্তিযোদ্ধারাই তখন জাতির জনকের নির্দেশনায় জাতীয় চার নেতা ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দের সহায়তায় মুক্তির লড়াইয়ে অংশ নিতে তথা প্রান উৎসর্গ করতে ভারতে চলে গিয়েছিল কোন রকম ভুত ভবিষ্যতের চিন্তা না করেই। এবং ভারতের তৎকালীন মহামতি ইন্দিরা গান্ধী সরকারের ও তাদের সেনবাহিনীর সার্বিক সহায়তায়,বদান্যতায় এই মহান স্বাধীনতা জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল আর বিজয় অর্জন করে আপনাদের কে একটি স্বাধীন জাতি হিসাবে সৃষ্টি করেছিল। আজ রাজনৈতিক স্বীদ্ধান্তের কথা তো মুক্তিযোদ্ধারা অস্বীকার করে না বরং গৌরব ভরে তা স্বীকার করে তবে কেন রাজনৈতিক এমন স্বীদ্ধান্তের বলি হচ্ছে দেশের দুঃসময়ের সাহসীদের? এমনকি আর কত বড় ক্ষতি হতো সংবিধানের পাতায় এই মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে দুই ছত্রে কয়েকটি কথা উল্লেখ করলে? আসলে এসবই ছিল নিচুতার একটা অকাট্য প্রমান দৃষ্টান্ত। আজ স্বাধীনতার পঞ্চাস বছর অতিবাহিত হলেও সেই ইচ্ছাকৃত ভুলের সংসোধন করা হয়নি। এত বড় কৃতঘ্নতার উদাহরণ এ বিশ্বে আর কোথাও নেই। আজ থকে শত বছর পরে যদি কেউ এই স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে হয় নি বলে কোন আইনগত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় তখন কি কোন উত্তর দিতে পারবে রাষ্ট্র বা কেউই। এমনিতেই স্বাধীনতার শত্রুর সন্তানেরা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট বা রাজনৈতিক সকল পদে আসীন হয়ে আজ তারা গৌরবের দাবীদার আমারই এনে দেয়া রাষ্ট্রের । পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রজন্মেরা কার্যত সে তুলনায় হাজার মাইল পিছনে পড়ে আছে। তা হলে এ ইতিহাসের পাতা তো এমনিতেই উঁই পোকায় খেয়ে নেবে। আজো মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের সাংবিধানিক স্বকৃীতির জন্য এই আশি পঁচাশী বছর বয়সেও চিড়া মুড়ি গুর খেয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করতে হয়। যদিও তা এই দেশের মহান সাংবাদিক রা তা দেখেও না দেখার ভান করেন। কারন মুক্তিযোদ্ধাদের উপর তারা নাখোশ,তাদের পয়সা দেয়ার ক্ষমতা নেই। তাই তাদের এই সংবাদ শিরোনাম আর হয়না। এসব কারন গোপন আর অঙাত। আর পাকিস্তানের প্রেতাত্মা আমলা গুলো তো তাদের কাজ আজীবন নিজেরা করবেন আর তাদের উত্তর সূরীরাও। এজন্য আজও বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রের সাংবিধানিক স্বকৃীতি কপালে জুটবে বলে মনে হয় না। এ এক পোড়া কপাল এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। ........... দেশ রাষ্ট্রের স্বার্থে ও জাতি গঠনের স্বার্থে পাকিস্হানে থেকে যাওয়া বাঙালি সেনাবাহিনীর সদস্য ও অফিসারদের ফেরত আনলেন বঙবন্ধু এবং সরল বিশ্বাসে তাদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অঙ্গীভুত করলেন যারা চাকুরী করতে চায় তাদেরকে। তিনি এতটাই মহান ছিলেন যে যেআটজন পাকিস্তানের পক্ষে দীর্ঘ নয়মাসে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন সেই আট জন সেনা অফিসার কে মাফ তো করলেনই সাথে তাদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমকক্ষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট করিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসার হিসাবে পদায়ন করলেন! আশ্চর্যের বিষয় যে মুক্তিযোদ্ধাদের এই বীরত্বের ভাগীদার করে তাদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাই বানিয়ে দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু। ( তথ্যসুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম চৌধুরীর চট্রগ্রাম সাহেবে র বিগত লেখার আলোকে বর্নিত সত্য ইতিহাস।) দেশের প্রথম ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সৃষ্টি এখান থেকেই আরম্ভ হলো তাই নয় কি? এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু একজন বাঙালি অফিসার যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি হয়েও আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিশৃংস ভাবে হত্যা করে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন তিনিও পাকিস্তান থকে ফেরত আসা সেনা সদস্যদের সাথে ফিরে আসলে তাকেও ক্ষমা করে বাংলাদেশ সেনবাহিনীরতে পদোন্নতি সহ পদায়ন করে চাকুরী তে বহাল করা হয়। পরবর্তী তে এই অফিসার বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন। ( তথ্য সুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম চৌধুরী চট্টগ্রাম এর বিগত লেখার আলোকে বর্নিত সত্য ইতিহাস)। এগুলো ছিল জাতির জনকের মহান মানবিকতা। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন যে যুদ্ধই যখন শেষ তবে আর অতীত নিয়ে চিন্তা না করে ওদের কেও দেশে কাজ করার সুযোগ দিলে দেশ দ্রুতই উন্নত হবে। এই সঙে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সর্ব সাকুল্যে যেখানে মাত্র যে চার হাজার সেনারা প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যুদ্ধ করে ছিলেন, বিভিন্ন সময়ে সম্মুখ যুদ্ধ যুদ্ধ করেছিলেন তাদের সাথে আরো কমবেশী ২১ হাজার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যারা মুক্তিযুদ্ধে মেটেই অংশ গ্রহন করেন নি এমন মোট চব্বিশ হাজার সেনাবাহিনীর সদস্য রা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন। কি সেলুকাস তাই না! হ্যাঁ এটাই আপনার আমার এই সোনার বাংলাদেশের সত্যি ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন এক কলমের খোঁচায় গেজেটের মাধ্যমে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও অমুক্তিযোদ্ধা ( ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা) তৈরি কি এভাবেই আরম্ভ হলো না? জাতির বিবেকের কাছে তো প্রশ্ন রাখাই যায়। তবে এভুলের খেসারত জাতির পিতা তিনি নিজে ও তার পরিবারের নিষ্পাপ সদস্যদের প্রানের বিনিময়ে দিয়েছেন। আজ আমাদের মমতাময়ী মা ও তার বোন শেখ রেহেনা ও সৌভাগ্যক্রমে বিদেশ থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন। তাই আজ এই স্বাধীন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। নাহলে হয়তো এদেশের ইতিহাসের ভিন্ন পাতা সৃষ্টি হতো নিশ্চিত। তবে এই প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও অবদানও এই মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের প্রজন্মের ই। নইলে বিদেশি মেহমান হয়েই আজো বেঁচে থাকতে হতো প্রধানমন্ত্রী হওয়া তো দুরের কথা। .....এর পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু রাজাকারদের যারা বড় কোন অন্যায় করেন নি কিংবা বাড়ি ঘড় পোড়ায় নি,হত্যায় অংশ নেয় নি এমন সব রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমা করে দিলেন। দিয়েছিলেন তো দেশে তারা উন্নয়নে অংশ নেবে এই ভেবে কিন্তু তারা কি তাদের অবস্থান থেকে এই ক্ষমা পেয়ে আদৌ পরিবর্তিত হয়ে দেশের সেবায় অংশ নিয়ে ছিল? এই প্রশ্ন ও থেকেই গেলো জাতীয় বিবেকের কাছে। বাঙালি জাতি সব কিছু ভুলে যায় না.. এত বিশ্রুত জাতি বাঙালি নয়। সাধারন ক্ষমা পেয়ে রাজাকার আর স্বাধীনতা বিরোধীরা বরং তারা এই সুযোগ গ্রহন করে দাগী দাগী বড় মোটা মোটা রাজাকার আল বদর, আল সমাসের নেতারা পুনরায় গোপন ও নতুন ষড়যন্ত্রের পথ তালাশ করতে লাগলেন আর তাতে সংযুক্ত হতে লাগলো । পাকিস্তান বসে তাদের নেতা গোলাম আজমও এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে সেখানে থেকেই কলকাঠি নাড়ছিলেন। তারাও তার সেই নির্দেশনা নিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড অতি গোপনে নতুন করে চালু করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা বিদ্ধস্ত, নিঃস আর রাজাকারেরা নতুন মুক্তি পাওয়ার আনন্দে গোপন উল্লাস। কেমন অনভিপ্রেত ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না? কিন্তু এমনই হয়েছিল। একটা স্বাধীন দেশের স্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধারা কিভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে ধংস্ব হতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোকে উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করলে সকল সত্য অবশ্যই বেরিয়ে আসবে আর যাদি কথাগুলো সত্যি হয়ে থাকে তবে এরচেয়ে জঘন্য ইতিবৃত্ত আর কি হতে পারে? ভবিষ্যতে এ নিয়ে অবশ্যই সত্যি গবেষণা হতেই হবে। যে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় না হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বেঁচেই থাকতেন কিনা.. সেখানে জাতির জনক, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা সবচেয়ে বড় একক ক্ষমতাধর ব্যাক্তি হওয়া ছিল স্বপ্নেরেও বাইরে । কিন্তু বাংলার এই অর্ধ শিক্ষিত অশিক্ষিত বীর যুবক ছেলেরা বঙ্গবন্ধুর আদেশে নিজের প্রান ও রক্ত দিয়ে তার কথার মান রক্ষা করে দেশের মুক্তিযুদ্ধে জয় করে তাকে বীরের বেশে তিরানব্বই হাজার পাকিস্তানের সেনাদের জীবনের বদলে একমাত্র তাকে ফেরত আনলো আর এনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মসনদটিতে বসালেন তারা তো এই মুক্তিযোদ্ধারাই আর তো কেউ নয়। তবে দুঃখ জনক হলেও সত্যি সেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অশ্রু শিক্ত নয়নে জাতির জনকের এক আদেশের কোন বাক্য ব্যায় না করেই তাদের হাতের বড় শক্তিটি বঙ্গবন্ধু পায়ে জমা রেখে একেবারেই খালি হাতে নিজ নিজ পোড়া ভিটায় ফেরত গেলেন। কারো বাড়ী ঘর ছিল না,কারোর পিতা মাতা মৃত, কারোর ভাইবোন বেঁচে নেই আবার কারোর কারোর স্ত্রী মা বোন ধর্ষিত হয়ে করুন অবস্থায় বেঁচে ছিল এই মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণের কারনে এরাই তো সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা! জাতীয় ইতিহাসের পাতায় আমরা এক নামে বীর হলেও দেশ বা সমাজে মুলত সবচেয়ে আপাংতেয় একটা শ্রেনী। আজ নিজ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলে সন্তান সমতুল্য বা নাতী নাতনী সমতুল্য ছেলে বা মেয়েটি ও জিজ্ঞেস করে ***আপনি ভুয়া নয় তো?*** এ লজ্জা কোথায় রাখি? আমি তো তোমাদের জন্য জীবন, রক্ত দিয়ে তোমাদের পরিচয় এনে দিলাম, আমিতো তেমাকে বিশ্বে একটা ভীরু ভেতে বাঙালী পারিচয় থেকে বীরের জাতিতে রুপান্তর করলাম। সেই আমাকে বা আমাদের কে কোথায় পায়ে হাত রেখে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের আজ তোমরাই আমাদের নিয়ে কটাক্ষ কর অপদস্ত কর প্রতি পদে পদে। এই কি আমার পুরষ্কার? এই কি আমার পাওনা ছিল আমার এনে দেয়া রাষ্টের নতুন পুরাতন প্রজন্মের কাছে?। আমার বীরত্বের কালের সময় কে তোমরা কালিমা লেপন কর! আমাকে পথে ঘাটে মাঠে প্রান্তরে অপমান অপদস্ত কর। এই আমার রক্তের আর আমার অংঙ্গ সমূহের দাম যা তোমাদের স্বাধীন জাতিতে পরিনত করতে আমি সহাস্যে দান করেছিলাম এই আমিই তো সেই মুক্তিযোদ্ধা। অথচ আজ কার্যত তোমাদের চোখে নিতান্তই পরিহাসের পাত্র বৈ আর কিছুই নয়। কিন্তু প্রশ্ন কি আসে না কারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের আমাদের মাঝে ঢুকিয়ে দিয়ে আমার বীরত্বের মহিমাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করালো! কারা তারা? কেউ তাদেরকে একবারও অঙ্গুলী উঠিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন,? কেন করছে তারা আজ অবধী এমন হীন ষড়যন্ত্র? যা স্বাধীনতার পন্চাস পরেও চলমান! এটা কি আপনাদের দেশে বীর জাতি পরিচয়ের উপর কলংক লেপন করে না? করে.. তবে আপনারা এতই অন্ধ আর মুর্খ যে সে অনুভূতি আজ আপনাদের প্যারালাইজড করে রেখেছে অশুভ রাজনৈতিক শক্তির পুরোধা রা ।